নিজস্ব প্রতিবেদক:
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আগাম জল্পনা-কল্পনা। যদিও এখনো নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করেনি, তবুও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই চলছে সরব আলোচনা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকার ও নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার কাঠামোর সংস্কার শেষে চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) ধাপে ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করবে। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১০ থেকে ১২ মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতি ২ হাজার ভোটারের জন্য একটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন এবং ভোটারের সংখ্যা অনুযায়ী বুথ পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী দলীয় প্রতীক ছাড়াই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জকিগঞ্জে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি কয়েকজন নতুন মুখও রয়েছে। বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন—জকিগঞ্জ পৌরসভার প্রথম ও প্রতিষ্ঠাকালীন মেয়র, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং সিলেট জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক ইকবাল আহমদ তাপাদার; জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান; বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও গবেষক হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী; সমাজসেবক ও সাবেক ছাত্রনেতা সুয়েব লস্কর; সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গোলাম রোকবানী জাবেদ; সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুস ছবুর; বিএনপি নেতা মো. শাহীন আহমদ; মাওলানা বিলাল আহমদ ইমরান; এবং ফয়জুল ইসলাম চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন।
তবে সম্ভাব্য এসব প্রার্থীর কেউই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেননি। ফলে বিষয়টি এখনো পুরোপুরি রাজনৈতিক আলোচনা ও সম্ভাবনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, তফসিল ঘোষণার পরই প্রকৃত নির্বাচনী চিত্র স্পষ্ট হবে। এককভাবে নির্বাচন হলে খেলাফত মজলিসের মাওলানা মখলিছুর রহমানসহ আরও কয়েকজন নতুন মুখও মাঠে নামতে পারেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।





মন্তব্য
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন